রবিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১০

বাংলা ব্লগ দিবস নিয়ে আমার সামান্য প্রতিক্রিয়া!

এক সময় ইন্টারনেট ব্রাউজার ওপেন করলেই কেবল ইংরেজি আর ইংরেজি দেখতাম, তখন ভাবতাম ইন্টারনেট বোধ হয় ইংরেজদের বিষয়। আমরা গরীব দেশের মানুষের যোগ্যতা নেই বাংলা ভাষার ইন্টারনেট দেখা। আর এখন বাংলায় "সবাক" লিখে সার্চ করলেই পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠার চোখের সামনে এসে নাচতে থাকে। কেমন লাগে বলুনতো! হৃষ্টপুষ্ট হরফগুলো অনলাইনে দেখলেই মনে হয় মায়ের কোল আমাকে ডাকছে। এমন ডাকাডাকি শুরু করলো সামহোয়ার ইন ব্লগ। ইউনিকোড সমস্যার সমাধানের পর এখনতো বাঙলা ব্লগের ছড়াছড়ি। বলা চলে ব্লগ বিপ্লব হয়ে গেলো বাংলাদেশে। আমার আনন্দের আর সীমা নাই। বাংলা ভাষার এমন বিশ্বায়নে অবদান রাখার জন্যই সামহোয়ারকে ভালোবাসি।

গত বছর সামহোয়ারের উদ্যোগে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের ১৯ তারিখকে বাংলা ব্লগ দিবস ঘোষনা করা হয়। এরকম একটি দিবসের প্রয়োজনীয়তার ব্যাখ্যা অবশ্যই ইতিবাচক। প্রতিদিন একই গতিতে আমরা থাকতে পারি না, প্রতিদিন একই ধরনের ত্যাগ স্বীকারও করতে পারি না। একটি বিশেষ দিনে বিশেষ ভাবে বিশেষ ভংগিতে আমাদের বিশেষ পদচারনার ফলাফল যে শূন্য হবে না, তা বলার জন্য কোন বিশেষজ্ঞ হতে হয় না।

আজ সামহোয়ারের অফিসে একটু আগেই গেলাম। আমি আসলে আয়োজন ছাড়া অফিসটার চেহারা দেখতে চেয়েছিলাম। আমি সন্তুষ্ট। তাদের কনসেপ্ট, কন্টেন্ট এবং অফিস প্ল্যানিং এক কথায় চমৎকার সুন্দর। "আনন্দের সাথে কাজ এবং কাজের সাথে সুন্দর" এ একটি বাক্য দিয়ে তাদের অফিসের বর্ণনা দেয়া যায়। কিচেন রুমের নিশানা বৃত্ত, অফিসের এ কোণায় টেবিল টেনিস বোর্ড আর বিশেষ করে অফিসের ঢুকলেই ঢাকার প্রতীক "রিকশা"। কাজ করার পদ্ধতি, তথ্য এবং সামাজিক যোগাযোগ নিয়ে গবেষনার ছাপ পেলাম পুরো অফিস জুড়ে।

কিন্তু মডুর দেখা পেলাম না :(

এবার আসি মূল বিষয়ে। ব্লগ দিবস নিয়ে কথা বলবো। সহজ সরলভাবে বলতে গেলে আমি বলবো "বাংলা ব্লগ দিবস" এখনো ব্লগগোষ্ঠীর কাছেই সার্বজনীন নয়। বলা চলে এটি এখনো সামহোয়ারের নিজস্ব দিবসই রয়ে গেলো। এক্ষেত্রে সামহোয়ারের সমালোচনা করার মতো বিষয় অবশ্যই আছে। ব্লগ দিবসের অনুষ্ঠান পরিকল্পনা, অন্য ব্লগ সাইটের দ্বায়িত্বশীলদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিকরণ- এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট গাফিলতি আছে। তাদের সীমাবদ্ধতার উপর শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, পুরো অনুষ্ঠানকে সামহোয়ারময় করে রাখা হয়েছিলো। অন্য ব্লগসাইটগুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া, বাংলা ভাষার কমিউনিটি ব্লগ সাইটের পরিসংখ্যান জানানোর কাজটি অন্তত করা যেতো। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কমিউনিটি ব্লগ সাইটের পক্ষ থেকে বাংলা ব্লগ দিবস নিয়ে একটি করে ফেস্টুন রাখা যেতো। এমনটি একেবারে দায়সারা গোছের হলেও একটি ব্রুশিয়ার করা যেতো।

পুরো অনুষ্ঠানের ইভেন্টগুলোয় সামহোয়ার সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দিয়ে সুস্পষ্ট বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে। এসব কোন অভিযোগই হতো না, যদি না "বাংলা ব্লগ দিবস" না হতো। সামাজিক যোগাযোগ সম্পর্কিত একটি আধুনিক প্রতিষ্ঠান যদি স্বগোত্রীয় প্রতিষ্ঠান সমূহের সাথে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন নিশ্চিত করতে না পারে, তবে বিষয়টির বিপরীতে কোন আত্মপক্ষ সমর্থন বক্তব্য খাটে না। পথিকৃত এর দায়িত্ব নিয়ে কোন অযুহাত চলে না। আমি বলবো একটি সম্ভাবনাময়ী বিষয় যদি ব্যর্থতার রূপ নেয়, তবে তার দায়ভার সামহোয়ারকেই নিতে হবে। নইলে এরকম দিবস ঘোষনার উদ্যোগ নেবারই দরকার ছিলো না। এখন পর্যন্ত দায়ভার নেবার ঝুঁকিই অধিক লক্ষনীয়।

আশা করবো আগামি বছর ব্লগ দিবস পালিত হবে অন্য কোন ব্লগ সাইটের উদ্যোগে, নতুবা একটি নিরপেক্ষ স্থানে প্রথম সারির কয়েকটি কমিউনিটি ব্লগ সাইটের উদ্যোগে। বাংলা ব্লগ দিবসের সাথে ব্লগ সাইটগুলোর এমন সম্পর্ক নিশ্চিত করার দায়িত্ব সামহোয়ারকেই নিতে হবে। প্রয়োজনে ব্লগারদের সাহায্য চাইতে পারে। আমরা সহনশীল ইতিবাচক যোগাযোগে বিশ্বাসী।

আগামী ব্লগ দিবসে আশা করবো একটি ব্লগ মেলার। ব্লগাররা আসলে সামহোয়ারের অযুহাত দেখানোর সুযোগ দিতে নারাজ। বিশেষ করে আজ কয়েকজন ব্লগারকে দেখা গেছে পুরো অনুষ্ঠানকে সফল করার পেছনে নিরলস কাজ করতে। এসব আমাদের ভালোবাসা। এ ভালোবাসার কার্যকর পরিণতি দেখতে চাই। আমরা বাংলা ভাষার ব্লগাররা আমাদের ভাষার পক্ষে, কোন বিশেষ ব্লগ সাইটের পক্ষে নয়।

সবাইকে বাংলা ব্লগ দিবসের শুভেচ্ছা।

শুক্রবার, ৩০ জুলাই, ২০১০

[sb]আমার প্রিয় ব্লগার - ফারজানা মাহবুবা[/sb]

২ বছর ৬ মাস ধরে বর্তমান নিকে ব্লগ লিখছেন আমাদের প্রিয় সামহোয়ার ইন ব্লগে। আমিও দু'বছর ধরেই লিখছি। কিন্তু মাঝখানে উনি ব্লগ লেখা কমিয়ে দিলে আমিও ব্লগে আসার আগ্রহ হারায়। ক'দিন হলো উনি নিয়মিত হলেন। আমি খুশি। কারণ এ আপুটি বিশেষ কারণে আমার কাছে বিশেষ উচ্চতায় আছে। আই স্যালুট হার!

যদি তার লেখনীর কথা বলি, তবে বলবো যথাযোগ্য প্রচারের অভাবেই বাংলা সাহিত্য এক জ্বলন্ত উপগ্রহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি শুধু বাক্য কিংবা শব্দ নিয়ে হয়, বরং লেখা করেন বর্ণ নিয়েও। একটি বর্ণ দিয়েই কাঁপিয়ে দিতে পারেন পাঠকের পাঠশরীরের গাঁথুনি। একজন শব্দশ্রমিকের এইতো সার্থকতা।

সম্প্রতি উনার যে লেখাটি পড়েছি- মনে হলো আমার প্রিয় আপু আমার জন্মদিনে এ লেখা উপহার দিলেন। বিমোহিত, মুগ্ধ! জন্মদিন উপলক্ষে বন্ধুদের সাথে বোতল মিথুনে বসার কথা থাকলেও মাসের শেষ হওয়ার কারণে হলো না। কিন্তু অন্তত আমি লেখাটি পড়ে দুধের স্বাদ দুধেই মিটালাম, পানি ঘোলা করতে হয়নি। একজন পাঠক হিসেবে এতো তৃপ্তি অন্য কোন রচনায় পেয়েছি বলে মনে হয় না।

আপুর লেখা থেকে - কিন্তু যেহেতু মাতাল হওয়ার পর কাউকে না কাউকে আমাকে সামলাতে হবে, সেহেতু বিয়ের পরে মাতাল হওয়াই সুবিধাজনক। কি অসাধারণ অনুভূতি আর বাস্তবতার সহাবাসে সহায়ক আলো এবং শব্দমিশ্রনে অপূর্ব ধ্রপদী এক রাতের অস্তিত্ব টের পাই। এখানে আপুকে সামলানোই মূখ্য বিষয়। এবং আমরা পুরো লেখায় তেমনটিই দেখতে পাই। কোন তারল্য সংশ্লিষ্টতায় নয়, নয় কোন ধুম্রপানোচ্ছলে, এ যে নি:রঙা, নি:রসা সারল্যক পঙতির কাঠামোয় আপু খুঁজে নিলেন মাতাল হবার রসদ। দুষ্টুমি করে বললে বলতে হয়- আপু কৃপনতা করেই রসায়ন ক্রয়ে আগ্রহী হননি।

আপুর লেখা থেকে - যদিও আমি বিশ্বাস করি, কিছু চরম শক্ত চরিত্রের মানুষ ছাড়া বাকী সব সাধারণ মানুষ একমাত্র মাতাল হলেই সত্যবাদী হয়। আমারও তাই মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছা হয় একদিন সত্যবাদী হই। - কতো সাহসী কয়েকটি চরণ! কবে কোন লেখক নিজেকে মেলে ধরেছিলেন নিজ লেখায়? এ বিরলগো! লেখিকা এখানে নিজ কপটতার কথা স্বীকার করেছেন অবলীলায়। সাহিত্যে সত্যতার চর্চা রীতিমতো অমাবশ্যার বাগধারা হয়ে গেলো! কিন্তু দেখুন, চরম শক্ত চরিত্র এবং মাতাল হলেই সত্যবাদী - এ দু বিষয়ের মধ্যকার অন্তর্নিহিত রসে পাঠক চাইলেই সারাদিন ডুবে থাকতে পারে।

আপুর লেখা থেকে - আমাদের টেবিলের পড়েই কাঁচের দেয়াল। মনে হচ্ছিল যেন আসলে বৃষ্টির নীচেই বসে আছি দু'জন। - কাঁচ যদি হয় জলরঙা, তবেতো বৃষ্টির আবহ সৃষ্টি হতেই পারে। লেখিকার এ অনুধাবনে হ্যাটস অফ! এরকমই রোমান্টিক এ লেখিকা রচনা করে গেছেন প্রায় শতাধিক রচনা।

এর আগেও কখনো তার চিঠি লেখার আকুতির কথা জেনেছি, কখনো বা তিনি বিপ্লবী হতে চেয়েছেন। তার উর্বর বুককে কোন লেখায় "এক পাঞ্জা বুক" বলে অবহিত করেছেন। এ যে, নিজের সম্পর্কে সত্যতা স্বীকার- অবশ্যই সাহসিকতা, অবশ্যই! পুরোনো বন্ধুকে ভুলে নতুন বন্ধুকে গ্রহণ করার আগে লিখেছেন "বন্ধু ভালো থাকিস" ! কৃতজ্ঞচিত্তে প্রকাশ করেছেন যতো জটিলতা, যতো ব্যাকুলতা, যতো চাহিদা, কামনা-বাসনার গোপন বুলি।

ব্যক্তিজীবনে আমার এ আপু খুবই উদারমনা এবং রক্ষনশীলা প্রগতির ধারক ও বাহক। উদার চিত্তে বিলিয়ে দেন নিজেকে। ইসলাম এবং মানবতার আভ্যন্তরীণ শান্তির ভারসাম্য রাখতে জীবন উৎসর্গকারী এ ব্লগার আপুকে ব্লগের কিছু পচা ব্লগার সব সময় কানা দৃষ্টিতে দেখেন। এ যে কেবলই ঈর্ষা! অথচ এ আপুর কাছ থেকে শেখার আছে অনেক কিছু। নিজেকে বিলিয়ে দেয়া এবং মানবতার সাথে সম্পৃক্ত রেখে অন্যের জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখা এখন সময়ের দাবি।

আমার প্রিয় এ আপুর দীর্ঘায়ু কামনা করি। শুধু আয়ুর নয়, উনার যাবতীয় যোগ্যতা এবং সম্পত্তি যেন থাকে অক্ষত যুগ যুগ ধরে। কারণ কিছু কিছু মানুষের জন্ম শুধু নিজের জন্য নয়, বরং সামষ্টিক শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য।

আপু, দুর্লোকদের কথায় কান দিও না। তুমি এগিয়ে যাও তোমার তরিকায়। গো অ্যাহেড!

রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০০৯

কানুভট্ট'র মৃত্যু পরবর্তী সঙবাদ বিজ্ঞপ্তি

কানুভট্ট পুত্রকর্মশোকে আত্মা বিসর্জন দিয়েছেন। ১২ অক্টোবর বিকেলে পুকুর পাড়ে বিষপান শেষে হাসপাতালে নেয়ার পথে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৫৫বছর। এসময় তিনি তার স্ত্রী দু'ছেলে এক মেয়ে, বৃদ্ধা মা আর অনেকগুলো ভাই-ভাইয়ের বৌ, পোলা মাইয়া রেখে যান। অপমৃত্যু বলে অপরাপর ব্যক্তিবর্গ তার স্বজন হওয়ার দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। কানুভট্টের স্বাভাবিক মৃত্যুর কিছুদিন আগে এই অমস্মাৎ বিদায়ে গ্রামের বিশিষ্টজনরা সতর্কভাবে শোকবানী দিয়েছেন। মৃত্যুখবর শুনে অনেক মুসলমান ইন্নালিল্লাহ পড়লেও পরে হিন্দু আবিষ্কারের পর দু'গালে থাপ্পড় মেরেছেন এবং তওবা করেছেন।

গ্রামে এ সংক্রান্ত আলোচনা আজ দু'দিন। মু'দি দোকানগুলোয় চাপাতা, চিনি আর কনডেন্সড মিল্কের কাটতি ভালো। এর আগে নবী এবং তুলসী দেবী প্রেমসহ নীল হয়েছিলো। মানুষের আলোচনায় আরো উঠে এলো ক্ষুদিরামের বোন। অপমৃত্যু বলে অধিকাংশ ধর্মীয় আচারমুক্ত ভট্ট পরিবারে ছোট মেয়েটা দু'দিন আর নুপুর পরে না। আরো ছোট ছিলো সে- একদিন ঈদের বাজারে টুপি কেনার জেদ ধরেছিলো। মহাপাপী কানু সেদিন ধর্মের ধোহাই দিয়ে রেহাই পেয়েছিলো। কানুর অর্ধবৃদ্ধা স্ত্রী মোট দু'বার মাথা ঘুরে পড়েছে। আর অনেক বিলাপ করেছে। ছোট ছেলের নাম রাজন। পলিটেকনিক্যালের পড়া হয়তো শেষ। কিন্তু শুরুও নিশ্চয় কিছু একটা হবে। হোক, আরেক মৃত্যু অথবা অগণিত মৃত্যু শুরু হোক।

অঞ্জন আর জয়- আমার সহকর্মী। কানু'র দাহকর্মে গিয়ে ফিরে আসলো। পুলিশ এখনো ছাড়েনি। কলিজা গুদ্দা সব নেয়া হয়নি বলে পোড়ানো হয়নি। মৃত মানুষ পুড়িয়ে ফেলা বা মাটিচাপা দেয়া আমার ভালো লাগে না। শক্তিহীন কাউকে এমন শাস্তি দেয়ার মাঝে কোন বীরত্ব নেই। আগুনের চীৎকার আর মাটিচাপা ধড়পড়; আহা! জীবনসুখের কামভোগ। হীরন্ময় আর পংকজ তাদের আত্মহত্যা চেষ্টার স্মৃতিচারণ করলো। পরিকল্পনা ভালো ছিলো। হীরন্ময় চেয়েছিলো পেটে ছুরি চালান করতে আর পংকজ রেলে কাটা পড়তে। পরিশেষে হীরন্ময়ের পেটে ১২টি সেলাই পড়লো। পংকজের সে রাতের রেল আসেনি। কিন্তু এরপর অনেকদিন ধরেই নিয়মিত রেল এসেছিলো এবং পরের বৈশাখী মেলায় আরো ধারালো ছুরি উঠেছিলো। আশ্চর্য! আর নতুন সেলাই পড়েনি, অঞ্জন আর জয়ও পূণ্যকর্মে ছুটেনি।

মনে আছে দু'বারের কথা। একবার ৫তলা দালানের ছাদ আরেকবার ৪০টা ঘুমের বড়ি। দু'বারই ব্যর্থ! লজ্জা আর লজ্জা। আমার জীবন, আমার দেহ। পারি না, পুরোপুরি অধিকার খাটাতে পারি না। কানু ভট্টকে নমষ্কার। জীবনের প্রতি এমন অধিকার খাটাতে ক'জন পারে! হীরন্ময়, পংকজ কিংবা আমি; এরকম অনেকেই পারেনি।

মৃত্যুর আগে কানু'র শরীরে দেবতারা অসূরের শক্তি আর কালীর সাহস আপলোড করেছেন। কানু'র চোখ থেকে মুছে দিয়েছেন ছোট মেয়েটার ছোট ছোট দাঁত। গোল গাল গোস্বা ভুলে কানু হারিয়ে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। তাদের বাড়ির উপেরর আকাশটা রং বদলায়নি। পুকুর পাড়ে কোন স্বর্গ বা নরক সৃষ্টি হয়নি। তুবও কানু মরে যাবার বিষয়ে একক সিদ্ধান্তে আসতে পারলেন। মৃত্যুর সময় সাহায্য করেছিলো তার বড়ো ছেলের অপকর্ম। আর বড়ো একটি সালিশ। অবশ্য ছোট দু' ভাইয়ের অনিশ্চিত ভবিষ্যতও কিছুটা অবদান রেখেছে। যমদূতের অপেক্ষা ছিলো শেষ নি:শ্বাস পর্যন্ত। মৃত্যু টুকে নিয়ে তারা ঈশ্বরের কাছে চলে গেলেন।

শোকটা পুত্রকর্মে। কমতো নয় ১২ লাখ টাকার কেলেংকারি। যদিও গ্রামের সবচে' লম্বা ঘরের মালিক ভট্ট পরিবার। তবুও ঘর বিক্রির টাকায় দেনা শোধ হবে না। গ্রামের সব পিতার সচেতন হবার কথা শুনি। পুত্রদের খোঁচা দেয়ার ব্যাথা পাই। নারীদের গর্ভে থাকা সকল পুত্রের বিলম্ব প্রসব টের পাই। পিতারা এখন শংকিত, আতংকিত। কিন্তু একটা খবর জানা যায়নি, বিকেলে কানুর মৃত্যুখবরের রাতে কতোজন পিতা স্ত্রী সংগমে বিরতি নিয়েছিলেন। আসলে সে রাতের কামকর্মে কতোটুকু আরাম ছিলো? আমার ঘরে কোন স্ত্রী নেই। আমিই বা কি করতাম? পুত্রকর্মশোক আমাকে কতোবড়ো পিতা বানাতো?

আধ গেলাস জল অথবা একটি সিগারেটের প্রস্তুতি

একবার বলেছি, এখানে না থাকার কথা বারবার বলতে চাই না!
মৃত মাংসে আসক্তি নেই- বরঙ দেয়ালে টাঙিয়ে রাখি মানুষের অনুলিপি।
এখন দামী ক্যামেরায় সিনেমার চাষ হয়, আমার বিরক্তি তুলে রাখো।
আসন্ন শীতে নিরুদ্দেশ হবো- অন্য কেউ যাবার বিষয় নিশ্চিত করেনি!
প্রেমিকাকে নিয়ে সামান্য একটু বলার প্রয়োজন আছে-
আমাকে ধরে রাখতে চায় অন্যান্য বর্ষার কার্ণিশে; অবশেষে
নিকটবর্তী ছুরিতে কেটে নিবে পুতুলের পুরাতন জামা।
না, যে সূর্য্য মৃত্যুতে লাল হয় না, সে আমার নয়-
অন্যান্য সব জলশ্রমিকের- সারিবদ্ধ সাপের কংকাল।
আমি কাবুলিওয়ালার গল্পের ডাকাত, প্রেমিকার ভুল, আর
মাছির ডানায় পালিয়ে যাওয়া আগামী ভোরের সংগীত।
ঠিক এই মুহূর্তে চাঁদগামী মানুষের চোখে প্রেমিকার ছায়া নেই...
তার বাম চাখের কার্ণিশে দাড়িয়ে পড়ি সর্বশেষ ভাগ্যলিপি।

আপনার

মহামান্য, আপনি অপরাধ করেছেন। আপনাকে ঠকিয়েছেন। আপনিই সাক্ষি। আপনার নামে মামলা করেছেন। আপনার পক্ষে আপনিই কৌসুলী। আপনার জন্যই বিচারক এবং দর্শকের আসন। চেয়ে দেখেন মহামান্য, খোলা জানালা দিয়ে আপনারই শস্যখেত দেখা যায়। আপনার নৌকায় রঙ হয়েছে, সর্ষেবাড়িতে ঝাঁঝ হয়েছে। কবিতা লিখছেন, পড়ছেন, গ্রহণ করছেন, বাতিল করছেন। কালরাতে পাখি হয়েছিলেন; ডিম, তা' হয়ে বাচ্চা হয়েছিলেন। মহামান্য, আপনি খাদ্য হয়েছিলেন। অভিযোগের এসব বর্ণনা আপনার। সত্যি, আপনি আপনাকে নিয়ে ভাবছেন। এ অভিযোগের পক্ষে বলুন, হ্যাঁ- বিপক্ষেও বলুন। নিজেকে নির্মাণ করেছেন, না করেন নি! হ্যাঁ, আপনি এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করুন। আরেক কাপ চা' বামহাতে তুলে দিন। কবিতার নাম দিন "আপনার"। শরীর দিন "আপনার"। পড়ুন, গ্রহণ করুন, বাতিল করুন।