শুক্রবার, ৩০ জুলাই, ২০১০

[sb]আমার প্রিয় ব্লগার - ফারজানা মাহবুবা[/sb]

২ বছর ৬ মাস ধরে বর্তমান নিকে ব্লগ লিখছেন আমাদের প্রিয় সামহোয়ার ইন ব্লগে। আমিও দু'বছর ধরেই লিখছি। কিন্তু মাঝখানে উনি ব্লগ লেখা কমিয়ে দিলে আমিও ব্লগে আসার আগ্রহ হারায়। ক'দিন হলো উনি নিয়মিত হলেন। আমি খুশি। কারণ এ আপুটি বিশেষ কারণে আমার কাছে বিশেষ উচ্চতায় আছে। আই স্যালুট হার!

যদি তার লেখনীর কথা বলি, তবে বলবো যথাযোগ্য প্রচারের অভাবেই বাংলা সাহিত্য এক জ্বলন্ত উপগ্রহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি শুধু বাক্য কিংবা শব্দ নিয়ে হয়, বরং লেখা করেন বর্ণ নিয়েও। একটি বর্ণ দিয়েই কাঁপিয়ে দিতে পারেন পাঠকের পাঠশরীরের গাঁথুনি। একজন শব্দশ্রমিকের এইতো সার্থকতা।

সম্প্রতি উনার যে লেখাটি পড়েছি- মনে হলো আমার প্রিয় আপু আমার জন্মদিনে এ লেখা উপহার দিলেন। বিমোহিত, মুগ্ধ! জন্মদিন উপলক্ষে বন্ধুদের সাথে বোতল মিথুনে বসার কথা থাকলেও মাসের শেষ হওয়ার কারণে হলো না। কিন্তু অন্তত আমি লেখাটি পড়ে দুধের স্বাদ দুধেই মিটালাম, পানি ঘোলা করতে হয়নি। একজন পাঠক হিসেবে এতো তৃপ্তি অন্য কোন রচনায় পেয়েছি বলে মনে হয় না।

আপুর লেখা থেকে - কিন্তু যেহেতু মাতাল হওয়ার পর কাউকে না কাউকে আমাকে সামলাতে হবে, সেহেতু বিয়ের পরে মাতাল হওয়াই সুবিধাজনক। কি অসাধারণ অনুভূতি আর বাস্তবতার সহাবাসে সহায়ক আলো এবং শব্দমিশ্রনে অপূর্ব ধ্রপদী এক রাতের অস্তিত্ব টের পাই। এখানে আপুকে সামলানোই মূখ্য বিষয়। এবং আমরা পুরো লেখায় তেমনটিই দেখতে পাই। কোন তারল্য সংশ্লিষ্টতায় নয়, নয় কোন ধুম্রপানোচ্ছলে, এ যে নি:রঙা, নি:রসা সারল্যক পঙতির কাঠামোয় আপু খুঁজে নিলেন মাতাল হবার রসদ। দুষ্টুমি করে বললে বলতে হয়- আপু কৃপনতা করেই রসায়ন ক্রয়ে আগ্রহী হননি।

আপুর লেখা থেকে - যদিও আমি বিশ্বাস করি, কিছু চরম শক্ত চরিত্রের মানুষ ছাড়া বাকী সব সাধারণ মানুষ একমাত্র মাতাল হলেই সত্যবাদী হয়। আমারও তাই মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছা হয় একদিন সত্যবাদী হই। - কতো সাহসী কয়েকটি চরণ! কবে কোন লেখক নিজেকে মেলে ধরেছিলেন নিজ লেখায়? এ বিরলগো! লেখিকা এখানে নিজ কপটতার কথা স্বীকার করেছেন অবলীলায়। সাহিত্যে সত্যতার চর্চা রীতিমতো অমাবশ্যার বাগধারা হয়ে গেলো! কিন্তু দেখুন, চরম শক্ত চরিত্র এবং মাতাল হলেই সত্যবাদী - এ দু বিষয়ের মধ্যকার অন্তর্নিহিত রসে পাঠক চাইলেই সারাদিন ডুবে থাকতে পারে।

আপুর লেখা থেকে - আমাদের টেবিলের পড়েই কাঁচের দেয়াল। মনে হচ্ছিল যেন আসলে বৃষ্টির নীচেই বসে আছি দু'জন। - কাঁচ যদি হয় জলরঙা, তবেতো বৃষ্টির আবহ সৃষ্টি হতেই পারে। লেখিকার এ অনুধাবনে হ্যাটস অফ! এরকমই রোমান্টিক এ লেখিকা রচনা করে গেছেন প্রায় শতাধিক রচনা।

এর আগেও কখনো তার চিঠি লেখার আকুতির কথা জেনেছি, কখনো বা তিনি বিপ্লবী হতে চেয়েছেন। তার উর্বর বুককে কোন লেখায় "এক পাঞ্জা বুক" বলে অবহিত করেছেন। এ যে, নিজের সম্পর্কে সত্যতা স্বীকার- অবশ্যই সাহসিকতা, অবশ্যই! পুরোনো বন্ধুকে ভুলে নতুন বন্ধুকে গ্রহণ করার আগে লিখেছেন "বন্ধু ভালো থাকিস" ! কৃতজ্ঞচিত্তে প্রকাশ করেছেন যতো জটিলতা, যতো ব্যাকুলতা, যতো চাহিদা, কামনা-বাসনার গোপন বুলি।

ব্যক্তিজীবনে আমার এ আপু খুবই উদারমনা এবং রক্ষনশীলা প্রগতির ধারক ও বাহক। উদার চিত্তে বিলিয়ে দেন নিজেকে। ইসলাম এবং মানবতার আভ্যন্তরীণ শান্তির ভারসাম্য রাখতে জীবন উৎসর্গকারী এ ব্লগার আপুকে ব্লগের কিছু পচা ব্লগার সব সময় কানা দৃষ্টিতে দেখেন। এ যে কেবলই ঈর্ষা! অথচ এ আপুর কাছ থেকে শেখার আছে অনেক কিছু। নিজেকে বিলিয়ে দেয়া এবং মানবতার সাথে সম্পৃক্ত রেখে অন্যের জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখা এখন সময়ের দাবি।

আমার প্রিয় এ আপুর দীর্ঘায়ু কামনা করি। শুধু আয়ুর নয়, উনার যাবতীয় যোগ্যতা এবং সম্পত্তি যেন থাকে অক্ষত যুগ যুগ ধরে। কারণ কিছু কিছু মানুষের জন্ম শুধু নিজের জন্য নয়, বরং সামষ্টিক শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য।

আপু, দুর্লোকদের কথায় কান দিও না। তুমি এগিয়ে যাও তোমার তরিকায়। গো অ্যাহেড!

1 টি মন্তব্য:

  1. দারুণ।।

    ব্লগস্পটে আমিও ব্লগ খুলছি। http://proccod.blogspot.com/

    তবে এখনো কিছু বুঝতেছিনা।।

    উত্তরমুছুন